বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৭ কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ওই ব্যাংকের জড়িত কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে চিহ্নিত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে। এ লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৭ জন কর্মকর্তার দেশত্যাগের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই কর্মকর্তাদের নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রেখেছে পুলিশের ওই গোয়েন্দা সংস্থা।

বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৭ জন কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি’ শিরোনামে ভয়েস অব আমেরিকায় প্রকাশিত এক সংবাদে জানানো হয়েছে এ তথ্য।

আরও কোনো কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন কিনা এ ব্যাপারে তদন্ত এখনো অব্যাহত আছে। সন্দেহের তালিকায় থাকা দু’একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে বিদেশ যাওয়ার উদ্যোগ নিলেও তাদের যেতে দেয়া হয়নি।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লোপাট হওয়া অর্থের মধ্যে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ মাত্র দেড় কোটি ডলার ফেরত দিয়েছে এ পর্যন্ত। বাকি অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে এমন আশাও ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করা হয় ওই প্রতিবেদনে।

চট্টগ্রামে ‘প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্র’ করার উদ‌্যোগ

নগরীর শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পাঁচতলা ভবনের এ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য চারটি সম্ভাব্য জায়গা বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস (বিএমইটি)।

সাগর-রুনি হত্যা: ৫ বছরের মামলার তদন্তে অগ্রগতি কতদূর?

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার পাঁচ বছর পার হলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। যদিও আদালতে তারিখ পড়েছে ৪৭ বার। আগামী ২১ মার্চ এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে করেছেন আদালত।

এই হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাকে এ দিন সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানানোর জন্য বলা হয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজারে ভাড়া বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সাংবাদিক মেহেরুন রুনি। হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদি হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ থেকে ডিবি, ডিবি থেকে র‌্যাবের হাতে তদন্ত ভার গেলেও বিচারের মুখোমুখি হয়নি কেউই।

নিজ বাসায় সাংবাদিক দম্পত্তি খুনের ঘটনায় সারাদেশে সাংবাদিক থেকে শুরু করে পেশাজীবী সকলেই প্রতিবাদ এবং ঘাতকদের গ্রেফতারের দাবি করেছিলেন।

ওই সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হবে বলে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। শুধু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয় তৎকালীন অনেক মন্ত্রীই আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের খুনিদের গ্রেফতারে নানা আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন ঘটেনি।

হত্যার পাঁচ বছরেও খুনি কারা বা কেনই খুন করা হয়েছে সে সকল বিষয়ে অধরাই থেকে গেছে।

 

ঢাকার বস্তি উচ্ছেদে ‘আগুন থেরাপি’

আফসান চৌধুরী

ঢাকা শহরের বস্তি বাড়ছে না কমছে– এ তথ্য আমরা ইদানীং জানতে পারছি যেহেতু বেশকিছু বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করার কথা কর্তৃপক্ষ ভাবছে। সাধারণভাবে বস্তিতে যারা থাকে তাদের আমরা খুব একটা দুশ্চিন্তা না করে গরিব বলতে পারি। এটার জন্য কোনো প্রশিক্ষণ বা গবেষণা লাগে না। কিন্তু যে তথ্যটি বের হয়ে আসছে সেটা হচ্ছে, বড়লোক আর গরিবের বৈষম্যের সূচক যদি জানতে হয় তাহলে এ দুই শ্রেণির আর্থিক অবস্থা দেখলে বোঝা যায়।

বাংলাদেশে বড়লোকদের প্রধান আবাসভূমি যদি গুলশান হয় তাহলে ঠিক তার পাশে বসে থাকা কড়াইল বস্তি গরিবের আস্তানা। মজার বিষয় হল কড়াইল ঢাকার বস্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় রয়েছে; অন্যগুলোর অবস্থা অনেক খারাপ। তারপরও যারা এ বস্তির জীবনযাপনের সঙ্গে পরিচিত তারা জানে, টিকে থাকা এ মানুষগুলোর জন্য কত কঠিন।

সামান্য একটা তথ্য আমাদের বিচলিত করে। কারণ বৈষ্যমের যত সূচক আছে তার মধ্যে গড়পড়তা আয় অন্যতম। সেক্ষেত্রে দেখা যায়, ঢাকার ওপর তলার মানুষের গড় মাসিক আয় প্রায় তিন লাখ টাকা, আর গরিবের গড় আয় আট হাজার টাকা। প্রতীকী অর্থে হলেও আমাদের যে বৈষ্যমের ভিত্তি করে সমাজ, প্রকারান্তরে রাষ্ট্র টিকে আছে তা এই দুই হিসাবের মাঝখানে বর্তমান।

প্রতীকের কথা বলতে গিয়ে এ তথ্যটি এসেই পড়ে: ঢাকায় বড়লোকদের জীবনযাত্রার ওপর তেমন কোনো গবেষণা হয় না। বড়লোকরা পর্দার আড়ালে জীবনযাপন করে। এই পর্দার যে উদ্দেশ্য, অর্থাৎ সম্ভ্রম ও ইজ্জত রক্ষা করা সেটা বড়লোকরা বেশ ভালোই পারে। কারণ ‘সামাজিক হিজাবে’র অন্তরালে তারা কী করে– সেটার খবর আমরা পাই না, শুধু মাঝেমধ্যে আঁচ পাই। ঠিক তেমনভাবে তাদের সঙ্গে লাগতে গেলে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হয় সেটার দিকে তাকাতে হয়।

প্রসঙ্গটা এ কারণে আসছে যে মহাখালী এলাকাতে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বস্তি ও বাসস্থানে আগুন লেগেছে। অনেকে এটাকে বলছে ‘আগুন থেরাপি’, অর্থাৎ গরিব এখন ক্ষত বা রোগের মতো, সেটা সারানোয় আগুন ব্যবহার করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত বাংলাদেশের গরিবের সহ্য ক্ষমতা এতই বেশি যে আগুনে ছ্যাঁকা খাওয়ার পরও তারা রয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আগুনে কাজ হচ্ছে– এমনটা বলা যায় না।

কিন্তু গরিব তাড়িয়ে ঢাকায় সমস্যার সমাধান হবে কি না, সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। বেশ কিছু গবেষণার কাজ চলছে বিত্তহীন মানুষের ওপর যা প্রমাণ করে গরিব ঢাকায় বেশ গেড়ে বসেছে, অর্থাৎ তারা ঢাকা আর না-ও ছাড়তে পারে। এই ঢাকা শহর না-ছাড়া গরিবদের নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কীভাবে তাড়াতে হয় সেটা বড়লোক শ্রেণি এবং প্রশাসন বুঝতে পারছে না। কোনো বা কোনোভাবে তারা টিকেই থাকছে।

বড়লোকদের তথা ক্ষমতাবানদের রাগের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে গবেষণা করতে গিয়ে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্য ও আমলাদের বইতে ঢাকায় বস্তিবাসীদের ওপর তাদের আক্রমণ ও ঘৃণায় উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে তারা এদের ভয়ও পেয়েছিল। যে কারণে পঁচিশে মার্চের রাতে আক্রমণ হয়েছিল বস্তিগুলোর ওপর, যদিও সেগুলো প্রতিরোধকেন্দ্র ছিল না।

কিন্তু এখনকার তুলনায় একাত্তরের বস্তিবাসী অনেক সাহসী ছিল। কারণ তাদের সামনে ছিল ইতিহাস। তারা আশা করার সাহস পেয়েছিল। কিন্তু প্রায় ৫০ বছর পরে বস্তিবাসীর যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাতে আর তারা ভাবে না এই শহর তাদের, বড়জোর ভাবতে পারে বস্তিগুলো তাদের সাময়িক বাসস্থান।

কিন্তু তেমন দুশ্চিন্তায় ভোগে না ঢাকায় বড়লোক শ্রেণি। তাদের দম্ভ এবং আত্মবিশ্বাসের শ্রেষ্ঠতম প্রতীক হচ্ছে বিজিএমইএ বিল্ডিং। বাংলাদেশের প্রতি, ঢাকার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা যে এটা তুলতে পেরেছে, তা প্রমাণ করে তারা কতটা ক্ষমতা রাখে। যখন এটা নির্মাণ শুরু হয় তখনই অনেকে বলেছিল, ওটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হবে। কিন্তু গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিকরা সেসবে পাত্তা দেয়নি। তারা জানত তাদের পক্ষে কারা আছে, কারা থাকবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের প্রাক্তন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে সেখানে গেছেন এবং তাদের উপস্থিতি ‘হালাল’ করেছেন। এর ফলে তাদের মনে সাহস হয়েছে যে, এটাকে আইনের চোখ তারা অস্বীকার করতে পারে।

আইনের কথাটা সবাই জানে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন যে, এটা সরাতে হবে। কিন্তু আইনের ফাঁকফোকর সবসময় থাকে এবং নিয়মের দীর্ঘায়ন সবসময় থাকে। এবং সে কারণে হাতিরঝিলের মতো পরিবেশগতভাবে নাজুক জায়গায় তারা ভবন তুলতে পারে, রাখতে পারে এবং বিচারব্যবস্থাকে উপেক্ষা করতে পারে।

কথাটা এই প্রসঙ্গে আসছে যে ঢাকার উত্তরের মেয়র নিজেও একজন গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির মালিক। তিনি মহাউৎসাহে ফুটপাত পরিস্কার করে থাকেন এবং তাঁর দাবি, এতে ঢাকার উন্নতি হচ্ছে। এর সঙ্গে আমি একমত। কারণ, একজন ফুটপাত ব্যবহারকারী হিসেবে আমি গরিব মানুষের কোনো দোকান দেখতে পাই না, দেখতে পাই বড়লোকের বড় বড় গাড়িগুলো ফুটপাতকে পার্কিং হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে এর ওপর কয়েকটি স্টোরিও করেছে এবং এই বিনা পয়সার পার্কিংয়ে কতটা ক্ষতি হয়, সেটার ইঙ্গিতও করা হয়েছে। তবে যেহেতু এটা বড়লোকের ব্যবহার তাই বিষয়টা বেশি দূর এগোয় না।

সে কারণে শহরের ফুটপাত পরিণত হয়েছে একধরনের প্রতীকী পরিসরে, যেখানে বেআইনি গরিব মানুষ ও তাদের রুজি উচ্ছেদ করে বড়লোকের গাড়িগুলো বেআইনিভাবে রাখা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধে কোন শ্রেণি জয় করেছে সে বিষয়ে কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। গরিব ঢাকা ছাড়ছে না, বড়লোক তাদের সহ্য করবে না– এটা কোনো সংঘাত তৈরি করবে না। কারণ আমাদের গরিবদের মধ্যে প্রতিবাদ করার ক্ষমতা চলে গেছে। তাদের পক্ষে কথা বলার মানুষও নেই। যেটা হচ্ছে সেটা খুব সরল।

আমার এক বন্ধু মুক্তিযুদ্ধের সময় বলেছিল যে, বিজয় সে দেখতে চায় না, তার আগে শহীদ হতে চায়। কারণ সে জানত স্বাধীন দেশে কী হবে।

মনে হয় সে শহীদ হয়েছিল। কিন্তু তার চেয়ে বড় সত্য সে আগামীকে দেখতে পেয়েছিল।

 

অনুলিখন: হাসান ইমাম

লেখক, সাংবাদিক ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক

চট্টগ্রামে পৌঁছেছে ৬ লাখ স্মার্ট কার্ড

চট্টগ্রামে পৌঁছেছে প্রায় ৬ লাখ মেশিন রিডেবল স্মার্ট কার্ড। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসে এসব স্মার্ট এসে পৌঁছায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রামের ডবলমুড়িং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাঈদ হোসেন।

তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে ২৫’শ ৭৪ কার্টুনের মধ্যে এসব স্মার্ট কার্ড চট্টগ্রামে এসেছে। এদের মধ্যে ডবলমুরিং থানায় ৪’শ ৬টি, কোতোয়ালি থানার ৯’শ ৩৫টি এবং পাচঁলাইশ থানার জন্য ১২’শ ৩৩টি স্মার্ড কার্ডের কার্টুন চট্টগ্রামে এসেছে।

তিনি জানান, সকল কার্যক্রম শেষে ঢাকা অফিস থেকে সিডিউল তৈরি করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে চট্টগ্রামে ভোটারদেরকে এসব স্মার্ড কার্ড নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিতরণ করা হবে।

শিক্ষকতায় নায়িকা কবরী

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা ও সাবেক সংসদ সদস্য সারাহ বেগম কবরী।

বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজনেস স্টাডিজ বিভাগে অতিথি শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বনামধন্য অভিনেত্রী, নারী উদ্যোক্তা, মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক সংসদ সদস্য কবরী বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ প্রোগ্রামের কনজিউমার বিহ্যাভিয়ার (ভোক্তা আচরণ) বিষয়ে প্রথম ক্লাস নেন। বসন্তকালীন সেমিস্টার ২০১৭ থেকে বিবিএ প্রোগ্রামের এডজাঙ্ক ফ্যাকাল্টি হিসেবে ‘এন্টারপ্রেনিয়ারশিপ’, ‘লিডারশিপ’ ও ‘ম্যানেজমেন্টের’ ক্লাস নেবেন তিনি।

তিন লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কেইপিজেডে ১.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

কোরীয় রপ্তানি প্রক্রিয়া জোনে ৩ লাখ ৩ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ১ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে সরাসরি। এ প্রক্রিয়া জোনে ১.২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এটি হবে দেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেড। ইপিজেড সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

কেইপিজেডের প্রেসিডেন্ট জাহাঙ্গীর সাদত বলেন, সরকার এবং স্থানীয় জনগণের সহায়তায় আমরা শিগগির কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবো। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের আনোয়ারায় এটি অবস্থিত। এতে আধুনিক সবুজ পরিবেষ্টিত পরিবেশবান্ধব একটি কারখানা স্থাপনের জন্য ১ কোটি বর্গফুট ফ্লোর থাকবে। শিল্প, জোন সাপোর্ট সেবা স্থাপনা, সড়ক, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক, প্লানটেশন, জলাশয় এবং উন্মুক্ত স্থানের মতো ইউটিলিটি সেবার জন্য কেইপিজেডের ২ হাজার ১৫০ একরের অধিক জমি উন্নয়ন করা হয়েছে।

কেইপিজেডে ২৫টি কারখানা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০ লাখ বর্গফুট ফ্লোর রয়েছে। এ বছরের মধ্যে ৪২ লাখ বর্গফুট ফ্লোরের জন্য একটি পলিস্টার কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দেয়া ছাড়পত্রের শর্তানুযায়ী ৩৩ শতাংশ ভূমি বৃক্ষায়নের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৯ শতাংশ ভূমি উন্মুক্ত ও জলাশয়ের জন্য রাখা হয়েছে।

কেইপিজেডের প্রেসিডেন্ট ৪৮ শতাংশ ভূমি (১২০০ একর) কারখানা, ইউটিলিটি, সড়ক, একোমোডেশন. হাসপাতাল,স্কুল এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জোনটি উন্নয়ন করেছে। সড়ক, ইউটিলিটি এবং অন্যান্য সুবিধাদির জন্য ভূমি ব্যবহারের পর ৩০ শতাংশ ব্যবহারযোগ্য ভূমি অর্থাৎ ৮৪০ একর জমি শিল্প স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত হবে। এখন বাকি ৪শ’ একর জমি উন্নয়নের জন্য আমাদের আর মাত্র দুটি শুষ্ক মোৗসুমের প্রয়োজন।

এ পযর্ন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও নতুন ৪.৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬ কিলোমিটার ৩৩ কেভি এবং ১১ কেভি ওভারহেড ইলেকট্রিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। কেইপিজেডে বর্তমানে ১৭ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছে। এদের অধিকাংশই স্থানীয় লোক। প্রতি দিনে নতুন শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীর সাদত বলেন, জোনটি পুরোদমে পরিচালনার জন্য আরো ১ লাখের অধিক শ্রমিক নিয়োগ দেয়া হবে।

কেইপিজেডের নিবার্হী পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, গত নভেম্বরের পর থেকে তিনটি নকশা উন্নয়ন কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি আগামী জুনে ছয়টি চার তলাবিশিষ্ট আরসিসি কারখানা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে জোনটি ১ কোটি বর্গফুট এলাকা হবে।

কেইপিজেডের গেস্ট হাউজ-১-এর নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হওয়ার পথে। এতে থাকছে ৯৬টি কক্ষ, সম্মেলন হল, বিজনেস ও যোগাযোগ কেন্দ্র। সমান সুযোগ-সুবিধাসহ গেস্ট হাউজের দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্মিত হচ্ছে।

জোনে ১২টি মহিলা ডরমিটরি নির্মিত হবে। এর মধ্যে তিনটির নির্মাণ কাজ চলছে। এতে ৫ হাজার ১৮৪ জন নারী শ্রমিকের থাকার ব্যবস্থা হবে।

কেইপিজেডে গ্রীন জোন গড়ে তুলতে কম্পাউন্ডের মধ্যে প্রায় ২০ লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ৭০ হাজার গাছের চাড়া রোপণ করা হয়। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১২৯ একর জমিতে জলাশয় তৈরি করা হয়েছে।

কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ ১৯৯৯ সালে ৬৫ কোটি টাকা দিয়ে সরকারের কাছ থেকে এই জমি অধিগ্রহণ করে। চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক ১৯৯৯ সালে ৩ আগস্টে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের কাছে জমি হস্তান্তর করে এবং ২০০৯ সালে পরিবেশ ছাড়পত্র পায়।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এলডিসির সমান সুবিধা চায় বাংলাদেশ

উদ্ভাবনী পণ্যে কোটি টাকার ‘সিড মানি’: পলক

ক্রবার ‘ন্যাশনাল হ্যাকাথন ফর উইমেন ২০১৭’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

ইন্টারনেটে লেনদেনে নীতিমালা করার তাগিদ